স্বাধীন ব্লগ বর্তমানে নির্মানাধীন

1:56 pm in খবর,বর্তমান প্রেক্ষাপট এবং আলোচনা by electrowater

স্বাধীন ব্লগ বর্তমানে নির্মানাধীন।সাইটটির কোডিং টেস্ট সহ অন্যান্য ত্রুটি সমূহ পরিক্ষা করার নিমিত্তে বিভিন্ন কপি করা পোস্ট পাবলিশ করা হয়েছে যা আচিরেই মুছে দেয়া হবে।ধন্যবাদ।

পৃথিবীর মতো বাসোপযোগী গ্রহের সন্ধান

4:35 pm in গল্প,কবিতা,উপন্যাস এবং ইতিহাস by electrowater

ই প্রথম বিজ্ঞানীরা প্রাণের বসবাস-উপযোগী একটি গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া সান্তা ক্রুজ ও কার্নিজি ইনস্টিটিউশন অব ওয়াশিংটনের একদল গ্রহসন্ধানী জ্যোতির্বিদ গত বুধবার রাতে এ ঘোষণা দেন। তাঁরা জানিয়েছেন, সৌরজগতের বাইরে ‘গি্লজ ৫৮১’ নামের তারা ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে গ্রহটি। নতুন আবিষ্কৃত এ গ্রহ খুব গরম নয়, খুব ঠাণ্ডাও নয়। গ্রহটির অন্যান্য ভৌত-বৈশিষ্ট্যও প্রাণের অস্তিত্বের জন্য খুবই অনুকূল।
সদ্য আবিষ্কৃত গ্রহটি মহাকাশের বিভিন্ন নক্ষত্রজগতের দূরত্বের তুলনায় পৃথিবী থেকে যথেষ্ট কাছেই অবস্থান করছে। পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব প্রায় ২০ আলোকবর্ষ (এক আলোকবর্ষ সমান প্রায় ৯ লাখ ৪৬ হাজার কোটি কিলোমিটার)। অর্থাৎ আমরা যদি পৃথিবী থেকে এমন একটি নভোযানে চড়ি, যার গতিবেগ আলোর গতির ১০ ভাগের এক ভাগ, তবে নতুন এ গ্রহে পেঁৗছাতে প্রায় ২০০ বছর সময় লাগবে।
এ পর্যন্ত গি্লজ ৫৮১ নক্ষত্রের ছয়টি গ্রহ আবিষ্কৃত হয়েছে। এর ভেতরে দুটি গ্রহ কয়েক বছর আগেই আবিষ্কার করা হয়েছিল, যার একটি ছিল যথেষ্ট উষ্ণ; অন্যটি খুব বেশি শীতল। সদ্য আবিষ্কৃত গ্রহটি আগের দুটি গ্রহের মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে। অবস্থান হিসেবে এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘গি্লজ ৫৮১-জি’।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, পৃথিবীর তুলনায় গ্রহটির ‘ব্যাসার্ধ’ ১ দশমিক ২ থেকে ১ দশমিক ৪ গুণ বেশি। ‘ভর’ বেশি ৩ দশমিক ১ থেকে ৪ দশমিক ৩ গুণ। তবে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি পৃথিবীর প্রায় সমান অথবা সামান্য বেশি। ফলে পৃথিবীর মানুষ এতে অনায়াসেই হাঁটাহাঁটি করতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের তুলনাও পৃথিবীর যথেষ্ট কাছাকাছি। গ্রহটির উপরিভাগের গড় তাপমাত্রা অবশ্য পৃথিবীর তুলনায় একটু বেশি শীতল_সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হিমাঙ্কের চেয়ে ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস নিচে এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হিমাঙ্কের চেয়ে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস নিচে। তবে এ তাপমাত্রায়ও প্রাণের অস্তিত্ব ভালোমতোই টিকে থাকা সম্ভব বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
গ্রহটির ‘সূর্য’ অর্থাৎ আলোর উৎস (গি্লজ ৫৮১) একটি লাল বামন নক্ষত্র। সূর্য এর চেয়ে আকারে প্রায় তিন গুণ বড় এবং তাপমাত্রায় প্রায় ৫০ গুণ বেশি উষ্ণ। সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব প্রায় সাড়ে ৯ কোটি মাইল। সে হিসাবে আবিষ্কৃত গ্রহটি তার আলোর উৎস থেকে অনেক কাছে_মাত্র দেড় কোটি মাইল। এর সূর্যের চারপাশে একবার ঘুরে আসতে গ্রহটির সময় লাগে মাত্র ৩৭ দিন, যেখানে পৃথিবীর লাগে ৩৬৫ দিন। বিজ্ঞানীরা আরো বলেছেন, তরল পানি, পাথুরে স্থলভাগ ও একটি সমৃদ্ধ বায়ুমণ্ডল রয়েছে গ্রহটির।
সব মিলিয়ে গ্রহটিকে পৃথিবীর প্রাণীর জন্য চমৎকার আবাসযোগ্য গ্রহ হিসেবে বিবেচনা করছেন সান্তা ক্রুজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্টিভেন ভোত। গ্রহটির একটি অংশ সব সময় এর সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে, বিপরীত অংশ থাকে অন্ধকারে। গ্রহটির আলো-আঁধারের মধ্যবর্তী অঞ্চলটি প্রাণের বসবাসের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত বলে মনে করেন অধ্যাপক স্টিভেন। এক বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, ‘আমরা এত দ্রুত পৃথিবীর এত কাছাকাছি গ্রহটির সন্ধান পেয়েছি যে এটি এ ধরনের আরো গ্রহ আবিষ্কারের ব্যাপারে আমাদের আশাবাদী করে তুলেছে।’
আলোকরশ্মির গতির পরোক্ষ পদ্ধতির (ইনডাইরেক্ট মেথড রেডিয়াল ভেলোসিটি) মাধ্যমে কেক-১ টেলিস্কোপ দিয়ে গ্রহটি আবিষ্কার করা হয়েছে। এ জন্য বিজ্ঞানীদের ১১ বছর অনুসন্ধান চালাতে হয়েছে।
প্রাণের বসবাসের উপযুক্ত কোনো গ্রহের অস্তিত্ব কল্পবিজ্ঞানের মতো। প্রাণের আবাসযোগ্য পরিবেশের জন্য চাই এমন সব জটিল শর্তের সমন্বয়, যার অনেক কিছুর মেলার পরও অঙ্কের চূড়ান্ত ফলাফলে অনিশ্চয়তা থেকে যায় অনেক। অতীতে সৌরজগতের বাইরে বিভিন্ন সময় প্রায় ৫০০ ছোট-বড় গ্রহের সন্ধান মিলেছে। তবে সেগুলো প্রাণের বসবাস-উপযোগী ছিল না। তবে নতুন আবিষ্কৃত গ্রহটির ক্ষেত্রে এখনো অনেক প্রশ্নের উত্তর অজানা রয়ে গেছে। সূত্র : নাসা

মহাবিশ্ব ঈশ্বর সৃষ্টি করেননি: স্টিফেন হকিং

4:31 pm in গল্প,কবিতা,উপন্যাস এবং ইতিহাস by electrowater

সম্প্রতি স্টিফেন হকিং জানিয়েছেন, এই বিশ্ব তৈরি হয়েছে নিজে থেকেই, আর তা তৈরি হয়েছে কোনো ঐশ্বরিক কারণ ছাড়াই।সংবাদমাধ্যমটির বরাতে জানা গেছে, হকিং পূর্বে ঈশ্বরে বিশ্বাস করতেন এবং জানিয়েছিলেন বিজ্ঞানের সঙ্গে ঈশ্বরের কোনো বিরোধ নেই। কিন্তু তার নতুন বই-এ তিনি বলেছেন, বিগ ব্যাং ছিলো পদার্থ বিজ্ঞানের নিয়মানুযায়ী অবশ্যাম্ভাবী একটা ঘটনা।হকিং এর নতুন এই বইটির নাম ‘দ্যা গ্র্যান্ড ডিজাইন’। বইটির বিষয়বস্তু সম্পর্কে হকিং জানিয়েছেন, বিশ্বের এই বিশাল নকশা সময়ের তালেই তাল মিলিয়ে সারিবদ্ধ হয়েছে। আর তাই এভাবে সাজাতে ঈশ্বরকে ভেবে নেবার কোনো প্রয়োজন পড়ে না।সংবাদমাধ্যমটির বরাতে জানা গেছে, নতুন বইতে হকিং কালের আর্বিভাব বিষয়ে স্যার আইজ্যাক নিউটানের তত্ত্বের বিরোধিতা করেছেন। আইজ্যাক নিউটন বিশ্বাস করতেন, বিশ্ব ঈশ্বরের তৈরি কারণ এই সুশৃঙ্খল বিশ্ব কোনো গোলমাল থেকে বের হয়ে হয়ে আসেনি ।এই বইটির সহকারী লেখক মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী লিওনার্দো মিওদিনো। আর এই বইটি এ বছরের ৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হবে।উল্লেখ্য, ১৯৮৮ সালে স্টিফেন হকিং তার বেস্ট সেলিং বই ‘ অ্যা ব্রিফ হিস্ট্রি অফ টাইম’-এ ঈশ্বরের অস্তিত্ব স্বীকার করে বলেছিলেন ‘বিশ্ব সৃষ্টিতে ঈশ্বরের ভূমিকা আছে’।
সূএ: বিবিসি অনলাইনের।

Black Hole কি? জন্ম কিভাবে?

4:26 pm in গল্প,কবিতা,উপন্যাস এবং ইতিহাস by electrowater

মহা বিশ্বের সবচেয়ে বড় রহস্য, সবচেয়ে বড় মহাজাগতিক বিস্ময়, ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণ গহ্বর।ব্ল্যাক হোল হলো আমাদের সূর্যের মত এক ধরনের নক্ষত্র। কোন নক্ষত্রের যদি অনেক ভর ও ঘনত্ত্ব থাকে, তাহলে তার মহাকর্ষীয় শক্তি এতই শক্তিশলী হবে যে আলো পর্যন্ত সেখান থেকে নির্গত হতে পারবে নে। মহাকর্ষীয় শক্তি আবার কি তাই না? এ মহাবিশ্বের যেকোন দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষন তাই হচ্ছে মহাকর্ষীয় শক্তি। এই নক্ষত্রের থেকে আলো কিছু দূর যাওয়ার আগেই নক্ষত্রটির মহাকর্ষীয় আকর্ষন দারা তাকে পিছনে নিয়ে আসে। পৃথিবীর জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এই কৃষ্ণ গহ্বর সম্পর্কে এ পর্যন্ত জানতে পেরেছেন সামান্যই। তবে যতটা তথ্য উদ্ধারে সক্ষম হয়েছেন তা যথার্থই অভাবনীয়, সাধারণ চিন্তার বাইরে।

Black Hole এর জন্মঃ নক্ষত্র যখন তার জ্বালানি পুড়িয়ে শেষ করে ফেলে তখন নক্ষত্র গুলো সংকুচিত হতে থাকে। সাধারনত গ্যালাক্সি গুলোর মাঝে অবস্থানরত বড় বড় নক্ষত্র তাদের বিবর্তনের সর্বশেষ পরিণতিতে সুপারনোভা বিস্ফোরনের মাধ্যমে ব্ল্যাক হোল সৃষ্টি করে।নক্ষত্র গুলো অনেক বেশি সংকুচিত হয়েই ব্ল্যাক হোলের জন্ম দেয়। কিন্তু সেই সংকুচিত হওয়ার মাত্রা কতটুকু? তা শুনে অবাক হবেন। উদাহরণস্বরূপ, সূর্যের ব্যাসর্ধ প্রায় ৬.৯৬০০০০০কিলোমিটার। এই বিশালাকার আয়তনকে যদি কোনোভাবে মাত্র ১০ কিলোমিটারে(!) নামিয়ে আনা যায়, তাহলে সেটি একটি ব্ল্যাক হোলে পরিণত হবে। আর আমাদের পৃথিবীকেই যদি চেপেচুপে মাত্র দশমিক ৮৭ সেন্টিমিটার(!) বানানো যায়, তাহলে পৃথিবীও একটি ক্ষুদে ব্ল্যাক হোলে পরিণত হতে পারে। ব্ল্যাক হোল হওয়া তাহলে সোজা ব্যপার না তাই না?

BlackHole Black Hole কি? জন্ম কিভাবে? | Techtunes

আকর্ষন করার ক্ষমতার এলাকা

ব্ল্যাক হোল থেকে আলো কিছু দূর যাওয়ার আগেই ব্ল্যাক হোলটির মহাকর্ষীয় আকর্ষন দ্বারা তাকে পিছনে নিয়ে আসে।

SuckingLightBlackHole Black Hole কি? জন্ম কিভাবে? | Techtunes

সব কিছু নিজের দিকে টেনে নেয়

যেহেতু আলো পর্যন্ত বের হয়ে আসতে পারে না তাহলে ব্ল্যাক হোলের অস্তিত্ত কিভাবে দেখা যায় বা বুঝা যায়? মহাকাশ বিজ্ঞানীদের মতে, অনেক সময়েই মহাকাশে প্রচুর তারকারাশি দেখা যায় যারা একটি বিশেষ বিন্দুকে কেন্দ্র করে ঘুরছে অথবা সর্পিলাকার গ্যাসীয় বস্তু দেখা যায় যা কোন বিন্দুকে কেন্দ্র করে অবস্থান করছে। এই বিশেষ বিন্দুগুলোই হল ব্ল্যাক হোল যেগুলোকে দেখা যাচ্ছে না ঠিকই কিন্তু তারা নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে তারকারাশি বা গ্যাসীয় বস্তুগুলোর অবস্থান আর তাদের গতি-প্রকৃতির মাধ্যমে।

777px First Gold Beam Beam Collision Events at RHIC at 100 100 GeV c per beam recorded by STAR Black Hole কি? জন্ম কিভাবে? | Techtunes

ব্ল্যাক হোল এর থেকে নিঃর্গত চোম্বকিয় তরঙmoz screenshot Black Hole কি? জন্ম কিভাবে? | Techtunesmoz screenshot 1 Black Hole কি? জন্ম কিভাবে? | Techtunesmoz screenshot 2 Black Hole কি? জন্ম কিভাবে? | Techtunes

অতিমাত্রায় কৃষ্ণকায় হওয়ার দরুণ ব্ল্যাক হোল আমাদের কাছে অদৃশ্য বটে কিন্তু এর থেকে নিঃসরিত বিকিরণ জনিত শক্তি প্রতিনিয়তই নির্ণেয়মান।

ব্ল্যাক হোল সম্পর্কে এখনো বিজ্ঞানিরা অনেক কিছু জানতে পারে নি। তাই এটি এখনো রহস্য

মহাকাশে প্রতিবেশী। আছে কী কেউ?

4:08 pm in গল্প,কবিতা,উপন্যাস এবং ইতিহাস by electrowater

এলিয়েন (Alien) সম্পর্কে আমাদের জানার আগ্রহের কোন কমতি নেই। অনেকেই বিশ্বাস করেন এলিয়েন আছে অনেকেই বলেন এসব মিথ্যে। কিন্তু মনে মনে হয়ত আমরা সবাই কিছুটা হলেও এলিয়েনের অস্থিত্বে বিশ্বাস করি এবং এ বিষয়ে বেশ কৌতুহলি। এলিয়েনের অস্থিত্বে বিভিন্ন প্রমাণ মিললেও তা পাকাপোক্ত নয় তাই আমরা এলিয়েনের অস্থিত্ব সম্পর্কে অফিসিয়াল কোন বানী পাইনি। কিন্তু এত বড় মহাবিশ্বে পৃথিবী ছাড়াও অন্য কোন জায়গায় এলিয়েন থাকাটাই স্বাভাবিক। এলিয়েন সম্পর্কে আমার ব্যাক্তিগত কিছু কৌতুহল থেকে আমি এসম্পর্কে কিছু তথ্য নেট ঘেটে বের করেছি যা আপনাদের সাথে টিউন আকারে শেয়ার করলাম।

alien asgard stargate মহাকাশে প্রতিবেশী। আছে কী কেউ? | Techtunes

এলিয়েন কি?

এলিয়েন সম্পর্কে বলার আগে এলিয়েন সম্পর্কে কিছু ব্যাপার পরিষ্কার করে নেই। এলিয়েন বলতে এমন জীবকে বোঝায় যাদের উদ্ভব পৃথিবীর বাইরে মহাবিশ্বের অন্য কোথাও হয়েছে এবং তারা সেখানেই বসবাস করে। এলিয়েন দেখতে কেমন হবে তার কোন ঠিক নেই।তারা দেখতে পৃথিবীর প্রাণীদের কাছাকাছিও হতে পারে আবার আমাদের ধারনা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হতে পারে।মোট কথা এলিয়েনের আকার আকৃতি নিয়ে মানব জাতীর পাকাপোক্ত কোন ধারনা নেই। এলিয়েন আছে তাই স্পষ্টকরে প্রমাণ হলনা আবার আকার-আকৃতি সম্পর্কে ধারনা আসবে কোত্থেকে?

এলিয়েনের প্রকারভেদ

একটু আগেই বললাম এলিয়েন এর আকার আকৃতি সম্পর্কে মানব জাতীর কোন ধারনা নেই। কিন্তু কিছু কিছু মানুষ দাবী করেন তারা এলিয়েন দেখেছেন। তাদের বর্নণা থেকে এলিয়েনের বিভিন্ন প্রকারভেদ তৈরী করা হয়েছে। সাধারনত এদের গঠন দিয়েই এদেরকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। মৌলিক ভাগগুলো হলঃ গ্রে এলিয়েন, দ্য র‍্যাপ্টিলিয়ানস ও হিউম্যান টাইপ; এছাড়াও এদেরকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

et মহাকাশে প্রতিবেশী। আছে কী কেউ? | Techtunesগ্রে এলিয়েন

এই টাইপের সবচেয়ে বেশি এলিয়েন পাওয়া যায়। এদের রংয়ে ধূষরের আধিক্ক থাকে বলে এদেরকে গ্রে এলিয়েন বলা হয়। এদের উচ্চতা ৩.৫ থেকে ছয় ফিট। এদের আছে বড় বড় ডিম্বাকৃতির গাঢ় কালো চোখ। এদের আবেগ অনুভুতি নেই বললেই চলে। মানুষের সাথে এরা খুবই নিষ্ঠুর আচরন করে। পাশের ছবিতে একটি গ্রে এলিয়েনের প্রতিকৃতি।

দ্য র‍্যপ্টিলিয়ানস

skull cone2 মহাকাশে প্রতিবেশী। আছে কী কেউ? | Techtunes

তিব্বতের একটি উপজাতীদের পূর্বপুরুষরা নাকি তারা(star) থেকে এসেছিল। উপজাতিটির নাম র‍্যাপটলিয়াডস। র‍্যাপ্টিলিয়ানসরা মানুষের আকারের প্রায় দ্বিগুন ছিল। এদের মস্তিষ্ক ছিল অনেক বড়। ফলে মাথার পেছনের দিকটা ছিল অনেক লম্বা। তাদের ওজনও ছিল প্রচুর প্রায় ২০০ কেজির মত। তাদের দেহ ছিল কুমিরের মত খাজ কাটা। কার খাজ ছিল ধূষরে সবুজ আবার কার কফি-গাঢ় সবুজ। এরা শিতল রক্ত বিশিষ্ট। পৃথিবীকে এরা নিজেদের গ্রহ মনে করে। এদের মূল গ্রহ দিন দিন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠছে তাই তারা ফিরে এলে পৃথিবীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রন নিয়ে নিতে চাইবে। ছবির খুলিটি কোন এক গুহায় পাওয়া যায়। সম্ভবত এটি কোন র‍্যাপ্টিলিয়ানস এলিয়েনের খুলি।

হিউম্যান টাইপ

এরা দেখতে প্রায় মানুষের মত। মানুষের সাথে এদের পার্থক্য হল এদের মোটা লম্বা চুল এবং অত্যন্ত ফর্সা ত্বক। এরা লম্বায় ১.৭-২ মিটার লম্বা হয়ে থাকে। এদের গ্রহে অক্সিজেন অত্যন্ত অল্প তাই এদের কপার ভিত্তিক রক্ত রয়েছে যা তাদেরকে বেশি অক্সিজেন ধারনে সাহায্য করে। অতি বেগুনী রশ্মিতেও এরা দেখতে পায়। এরাই একমাত্র প্রজাতী যারা মানুষের ক্ষতি করতে নয় আমাদের সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হতে আসে। Nordics-দের সাথে নাকি এদের সংঘর্ষও হয়েছে। মানুষের সাথে এদের মিলের কারনে অনেকে ধারনা করেন এরা মানুষের আত্বীয় যারা পূর্বে এ গ্রহ ছেড়ে চলে গেছে। কোন ছবি খুজে পেলাম না, দয়া করে আয়না দেখে নিন।
বাহন

এলিয়েনরা যেসব বাহন ব্যবহার করে সেগুলোকে UFO বা Unidentified Flying Object বলা হয়। এগুলো দেখতে প্লেটের মত এবং খুবই দ্রুতগতীর হয়। UFO দেখার মাধ্যমেই এলিয়েন সম্পর্কে মানুষের ধারনা আসে। UFO নিয়ে বিভিন্ন ঘটনা রয়েছে তার মদ্ধে রজওয়েলের ঘটনা অন্যতম। উইকিপিডিয়া থেকে এই ঘটনার বর্ণনা পেলামঃ

নিউ মেক্সিকোর মরুভূমিতে একটি শহর রজওয়েল। ১৯৪৭ সালের ১লা জুলাই, রাত্রিতে একটি প্রচন্ড ঝড়ে এবং বজ্রপাতের সময় এক বিমান ঘাটির রাডারে একটি অদ্ভুত ঘটনা ধরা পড়েছিল। রাডারে পর্দার এক কোনায় বার বার একটি বস্তু দেখা যাচ্ছিল। এটি এমন গতিতে যাচ্ছিল যে, ওই সময়ের সেনাবাহিনীর বিমানগুলোও (বর্তমান গতিরোধক বিমান) সেই গতিতে যাওয়ার কথা চিন্তাও করতে পারতো না। রাডারের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে বজ্রপাতের মত দিক পরিবর্তন করতে দেখা যায়। এটি ছিল ব্যাখ্যাতীত বিষয়, ঝড়ের দ্বারা উৎ‍পাদীত তড়িৎ-চুম্বকীয় সমস্যার জন্য রাডার পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে রাডারে একই জিনিষ লহ্ম্য করা হল যে, এটি আগের মতই বজ্রপাতের মত দিক পরিবর্তন করছে। তারা ভেবেছিল যে, কোন সত্যিকার বস্তু, বিপদজনকভাবে অজানা এবং সম্ভবত যুদ্ধপ্রিয় যা তাদের আকাশসীমা পার করছিল। পরে ৮ই জুলাই ১৯৪৭ সালে, রজওয়েল দৈনিক রেকর্ড নামে একটি সংবাদপত্রর প্রথম পাতায় প্রকাশ করেছিল যে, “রজওয়েলের খামার অঞ্চলে আরএএএফ উড়ন্ত বস্তু ধরা পড়েছে”। ঘটনাটি অন্যান্য স্থানীয় সংবাদপত্রতেও দেখা গিয়েছিল। এই বছর ৮ই জুলাই, বিমান বাহিনীর রেডিও সংবাদপত্রে ঘোষণা করেছিল যে, রহস্যময় দূর্ঘটনাটি একটি উড়ন্ত বস্তুর দ্বারা ঘটে ছিল। এই ঘটনাটির জন্য রজওয়েল শহরে ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (FBI) এসেছিল ব্যাপারটি পরীহ্মা করার জন্য। বিতর্কের কিছু দিন পরে, রজওয়েল সামরিক বাহিনীরা একটি বেলুনের ছিন্নাংশ দেখিয়েছিল, যেটি মুগুল নামের একটি প্রোগ্র্যামের জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল। এ সিস্টেমটি পরমাণবিক ক্ষেত্রের ক্রিয়াকলাপ পর্যবেক্ষণ করার জন্য পরিকল্পনা করা ছিল। সেই বছর গুলোতে রজওয়েলের বাসিন্দাদের থেকে বিভিন্ন সংবাদ এসেছে বিমান বাহিনী এবং ফেডারেলের সম্বন্ধে। কিছু লোক বলেছিল যে, “কখনও কখনও বিমান বাহিনীর কমর্চারীরা ধ্বংসাবশেষ এবং ফেডারেলের ট্রাকে দেহ (মানুষের না) বহন করে”। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের দ্বারা এগুলো সব অস্বীকার করা হয়েছে।

এছাড়া আরও অনেক ঘটনা রয়েছে কিন্তু টিউন লম্বা হয়ে যাবে তাই আর এখানে যুক্ত করলাম না। চাইলে উইকিপিডিয়ায় এই লিঙ্ক দেখতে পারেন।

প্রমাণঃ এতক্ষন ধরে বকবক করলাম। ছোটখাট কিছু প্রমান না দিলে আপনারা বলবেন গাজাখুরি গল্প করেছি। তাই যা প্রমাণ পেলাম তাই তুলে ধরলামঃ

৬২ জন স্কুল ছাত্র-ছাত্রীদের প্রত্যক্ষ দর্শনঃ ১৯৯৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জিমবাবুয়ের একটি প্রাইমারী স্কুলের ৬২ জন শিক্ষার্থী ভীনগ্রহীদের সাথে মুখুমুখি হন। তারা প্রত্যেকে একই ঘটনা বর্ণনা করেছেন। এমনকি আজ পর্যন্ত তাদেরকে এলিয়েনের ছবি আঁকতে বলা হলে তারা একই রকমের ছবি আঁকে। স্থানীয় একটি টিভি চ্যালেল এনিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরী করেছে। ভিডিওটি পাবেন এখানে।

অ’হের বিমানবন্দরঃ বেশিদিন আগে নয়। ২০০৬ সালের ৭ নভেম্বর, সিকাগোতে অ’হের বিমানবন্দরের ১২ জন কর্মচারি বলেন যে তারা রানওয়ের সামান্য উপরে চাকতি আকৃতির বিশাল কোন বস্তুকে ঘুরপাক খেতে দেখেছেন।

সরাসরি ভিডিও দিতে পারলাম না কারণ আমার কাছে যা ভিডিও লিঙ্ক ছিল ইউটিউব তা রিমোভ করে দিয়েছে। নিচে মন্তব্যে মেঘ রোদ্দুর ভাই ফেসবুক থেকে কিছু লিঙ্ক শেয়ার করেছেন যার আসল সংগ্রহকারী রাহাত রহমান সেগুলোই তুলে ধরলামঃ

* লিঙ্ক ১: ব্রাজিলে আমাজন জঙ্গলে ধারণকৃত।
* লিঙ্ক ২: space station থেকে তোলা।
* লিঙ্ক ৩: চীনে দেখা যাওয়া Ufo।
* লিঙ্ক ৪: বড় দালানের পাশে ঘূর্ণনরত ufo।
* লিঙ্ক ৫: ১৯৭৮ সালে তোলা। মাটিতে বিদ্ধস্ত।
* লিঙ্ক ৬: সর্বশেষ ২০০৬ সালে দেখা যাওয়া একসাথে একাধীক UFO। [EXCLUSIVE]
* লিঙ্ক ৭: ১৯৮৫ সালে একটি নদীর ধারে পড়ে থাকা ক্যামেরায় ভিডিওটি পাওয়া যায়। ক্যামেরার মালিক খুজে পাওয়া যায়নি।[EXCLUSIVE]

(বি.দ্রঃ এই ভিডিওগুলো সত্যি কি না সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই।)

কিছু ছবি দিয়ে দিলামঃ বেছে বেছে পরিষ্কার ছবিগুলো দিলাম। ছবিগুলো কিন্তু আসল।
1950paultrent মহাকাশে প্রতিবেশী। আছে কী কেউ? | Techtunes

1950-McMinnville, Oregon
1952washdc মহাকাশে প্রতিবেশী। আছে কী কেউ? | Techtunes

1952-Washington, D. C.
1956safrica মহাকাশে প্রতিবেশী। আছে কী কেউ? | Techtunes

1956-South Africa
1965santaanna মহাকাশে প্রতিবেশী। আছে কী কেউ? | Techtunes

1965-Santa Ana, California
1965tulsa মহাকাশে প্রতিবেশী। আছে কী কেউ? | Techtunes

1965-Tulsa, Oklahoma
1966provo মহাকাশে প্রতিবেশী। আছে কী কেউ? | Techtunes

1966-Provo, Utah
1967woonsocket মহাকাশে প্রতিবেশী। আছে কী কেউ? | Techtunes

1967-Woonsocket, Rhode Island
1987connecticut মহাকাশে প্রতিবেশী। আছে কী কেউ? | Techtunes

1987-Waterbury, Connecticut
2005losangeles মহাকাশে প্রতিবেশী। আছে কী কেউ? | Techtunes

2005-Modesto, California
শেষ কথা

এলিয়েন থাকুক আর নাই থাকুক এটা নিয়ে আমাদের কৌতুহল কোনদিন কমবে না। কিন্তু বুদ্ধিমান এলিয়েন থাকা আমাদের জন্য ক্ষতিকর। এবিষয়ে বিজ্ঞানি স্টিফেন হকিন্স বলেছেন,

“মহাবিশ্ব অনেক বড়। এর কোথাও না কোথাও প্রাণের অস্থীত্ব থাকবে। আর এ প্রাণ যদি প্রযুক্তিতে আমাদের চেয়ে এগিয়ে থাকে তাহলে আমাদের জন্য তা অমঙ্গলকর হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি, যেমনটা হয়েছিল ক্রিস্টোফারের আমেরিকা আবিশকারের পর রেড-ইন্ডিয়ানদের অবস্থা।”

এক হতভাগা বিজ্ঞানীর ডায়েরি

1:20 pm in গল্প,কবিতা,উপন্যাস এবং ইতিহাস by electrowater

আমার নাম আশফাক আহমেদ। পেশায় বিজ্ঞানী। বাংলাদেশে আমার মত বিজ্ঞানী আর একটিও জন্মায়নি। আমি ২০৫৩ ও ২০৬৬ সালে দুইবার নোবেল পুরুস্কার পাই। আমার সবচেয়ে বড় আবিষ্কারটি হচ্ছে মৃত্যুর পরও মানুষের মস্তিষ্ক সচল রাখা। তবে এর একটি সীমাবদ্ধতা আছে। আমি মানুষের শুধু মস্তিষ্কটাকেই সচল করে রাখতে পেরেছিলাম। কিন্তু মানব দেহের অন্যান্য অঙ্গ-প্রতঙ্গ নয়। আমি সর্বপ্রথম এটি একজন সাধারন নভোচারীর উপর প্রয়োগ করেছিলাম। সেই নভোচারী একটি দূর্ঘটনায় মারা গিয়েছিল। আমি তার মৃত্যুর পরও তার মস্তিষ্কটি সচল রেখেছিলাম। সারাবিশ্বে আমাকে নিয়ে মাতামাতি শুরু হয়েছিল তখন। কিন্তু এই সুখ বেশিদিন আমার কপালে জোটেনি। ২০৭৩ সালের ১০ ই এপ্রিল অর্থাৎ আমার জন্মদিনেই আমার মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছিল।

সেদিন ছিল শুক্রবার। সাধারণত এই দিনটির বেশিরভাগ সময় আমি আমার স্ত্রীর সাথে কাটাতাম। কিন্তু সেদিন হঠাৎই আমার মাথায় কিছু ফর্মূলা আসে। যেগুলোতে সফল হলে মানুষকে অমর বানানো সম্ভব। তাই ল্যাবরেটরিতে যাওয়ার জন্যে আমি ছটফট করছিলাম। আমার স্ত্রী গ্লোরি আমাকে বলল,
-আজকে আমি নিজ হাতে কেক বানিয়ে তোমাকে খাওয়াব।
আমি একটু অবাক হলাম। জিজ্ঞেস করলাম,
-কেক কেন?
-বারে আজকে তোমার জন্মদিন না! শুভ জন্মদিন আশফাক।
-ধন্যবাদ গ্লোরি।
কিন্তু এতে আমার ছটফটানি আরো বেড়ে গেল।
-তুমি এইরকম করছ কেন?
-না মানে…
-খবরদার বাইরে যাওয়ার নাম নিবে না। সপ্তাহের সাতটা দিনই যদি আমি তোমাকে না পাই তাহলে আমাকে বিয়ে করেছিল কেন?
আমি হাসি। হেসে বলি,
-শুধু আজকের দিনটা মাফ করা যায় না লক্ষীটি?
আমার স্ত্রী হাতের কাছেই একটা ফুলদানি (যেটা কিনা আমার আবিষ্কার জাফনিয়াম নামে নতুন একটা ধাতব দিয়ে তৈরি এবং বাসার যাবতীয় কিছু নিয়ন্ত্রন করা যায় এটি দিয়ে) নিয়ে ধপাস করে মাটিতে ফেলে দিলেন। স্বাভাবিকভাবেই ওটা ভাঙ্গল না। কারন জাফনিয়াম দিয়ে তৈরি জিনিস কখনো ভাঙ্গে না। রাগে দুঃখে আমার স্ত্রী মাটিতে পড়ে থাকা ফুলদানিটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। আমি আমার স্ত্রীর কাছে গিয়ে বসলাম। তার হাত ধরে বললাম,
-রাগ করেছো?
-না। আমি কারো উপর রাগ করি না। আমি তো এতিম। আমার কেউ নাই।
-এভাবে বলছ কেন?
-কিভাবে বলছি?
কিছুক্ষন আমার দিকে তাকিয়ে থেকে গ্লোরি আমার বুকে মাথা রাখে। বলে,
-তুমি কি জান আমি সবসময় কত একাবোধ করি?
-হুমম। আমি জানি। তবে তুমি হার্মার (আমার আরেকটি আবিষ্কার যেটি পৃথিবীর সর্বপ্রথম আবেগ সম্পন্ন রোবট) সাথে সময় কাটাতে পার। আমার মনে হয় সে গল্প করার জন্যে চমৎকার একজন সঙ্গী।
আমার স্ত্রী সামান্য ঠোঁট বেঁকে বলল,
-ধুর। হার্মার সাথে কথা বলতে গেলেই আমার কেমন যেন লাগে। রোবটের সাথে কি গল্প করা যায়?
-তুমি আগে থেকেই জান যে সে রোবট, তাই তুমি একথা বলছ। নাহলে পৃথিবীর কোন মানুষের সাধ্যি নেই যে বুঝতে পারে এটা রোবট না মানুষ।
কিছুক্ষন চুপ থেকে গ্লোরি বলে,
-সত্যি তোমার আজকে যাওয়া লাগবে?
তার সকরুণ কণ্ঠ আর মুখ দেখে আমার না বলতে ইচ্ছে করল কিন্তু তবু আমি বললাম,
-হ্যাঁ।
-বাসার ল্যাবরেটরিতে কাজ করলে হবে না?
-না। আমাকে অফিসের ল্যাবেই যেতে হবে। ওখানে ফর্মূলার অর্ধেকটা আছে আর অর্ধেকটা আমার মাথায়।
গ্লোরি এবার আরো কিছুক্ষন চুপ করে থাকে। তারপর বলে,
-এক শর্তে তোমাকে যেতে দিতে পারি?
আমি হাসলাম। গ্লোরিকে আমার বাহু বন্ধনে চাপ দিয়ে বললাম,
-কি শর্ত?
-আমার সাথে আশার কানন স্কুলে যেতে হবে।
আমি সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে গেলাম। তবু জিজ্ঞেস করলাম,
-ওখানে গিয়ে আমি কি করব?
-তোমাকে দেখলে ওরা খুশি হবে। ওদের কাছে তুমি একজন ফ্লিমস্টারের মতই পপুলার।

আশার কানন হচ্ছে এতিম এবং পথশিশুদের জন্যে স্কুল। স্কুলটা আমার বাসার কাছেই। এর সম্পূর্ণ ব্যায়ভার আমার স্ত্রী চালান। আমার স্ত্রীও এতিম। হয়ত সেজন্যেই তিনি এই স্কুলটা চালু করেছেন। গ্লোরিকে আমি প্রথম দেখি এরকমই একটা স্কুলে। প্রধান অতিথি হয়ে সেখানে গিয়েছিলাম। গ্লোরির গান গাওয়া দেখে আমি মুগ্ধ হই এবং বিয়ের প্রস্তাব দেই। ভেবেছিলাম সারাজীবন একাই কাটিয়ে দিব কিন্তু গ্লোরিকে দেখার পর মনে হয়েছিল, অনেক হয়েছে, এবার আমার একটা সঙ্গিনী চাই।
অনেকটা সময় পার করলাম আশার কানন স্কুলে। ছেলেমেয়েদের গোল করে বসিয়ে তাদের সাথে গল্প করলাম। গ্লোরি এতে খুব খুশি হল এবং শেষ পর্যন্ত আমাকে যেতে দিতে সম্মত হল। কিন্তু কে জানত জীবিত অবস্থায় গ্লোরির সাথে এটাই আমার শেষ দেখা।

আমি আমার উড়ন্ত গাড়িটি (যেটি কিনা ভূপৃষ্ঠ থেকে চার/পাঁচ ফুট উপর দিয়ে যায়) নিয়ে নির্দিষ্ট দিকে যাত্রা শুরু করেছিলাম। কিছুদূর যাওয়ার পরেই কিছু একটা সমস্যা হয়েছে অনুভব করলাম। তবু পাত্তা দিলাম না। এক রাস্তার বাঁকে ব্রেকের সুইচে চাপ দিতেই বুঝতে পারলাম আমার গাড়ির ব্রেক কাজ করছে না। সাথে সাথে আমি গাড়ির কম্পিউটারকে ড্রাইভিংয়ের আদেশ দিলাম। সে গাড়ির স্পিড আস্তে আস্তে কমাতে লাগল। আমি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম। কিন্তু তা ক্ষনিকের জন্যে। তারপর আবার হু হু করে গাড়ির স্পিড বাড়তে লাগল। এবার আমি সত্যি ভয় পেলাম তবু ঘাবড়ালাম না। আমার গাড়ি বর্তমান বিজ্ঞানে এক বিস্ময়। সব ধরনের সীমাবদ্ধতাকে কাটিয়ে উঠতে সক্ষম। কিন্তু আমার বিশ্বাস ভেঙ্গে গেল একটু পড়েই। পাশেই একটা ইলেকট্রিক পোলের সাথে (অন্যকিছু হতে পারে, ঠিক খেয়াল নেই আমার) ধাক্কা খেয়ে আমার গাড়িটি শূন্যে বনবন করে ঘুরতে থাকে। ততক্ষনে কম্পিউটার স্ক্রিনে লাল অক্ষরে লেখা উঠেছে দেখলাম, “নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ভেঙ্গে পড়েছে”। আমি বিস্ফারিত চোখে তাকিয়ে থাকলাম। তারপরেই আবার লাল অক্ষরে লেখা উঠেছে, “ভাসমান কক্ষ ভেঙ্গে পড়েছে”। আমি আমার কোমরের বেল্ট খুলে গাড়ি থেকে ঝাপ দিতে চাইলাম কিন্তু কোন অজ্ঞাত কারনে আমি সেটা পারলাম না। আমাকে নিয়ে গাড়িটি মাটিতে আছড়ে পড়ল। তারপর ডিকবাজি খেতে থাকল এবং পাশেই একটি ছোট জলাশয়ে গিয়ে পড়ল। জলাশয়ের পানিতে গাড়িটি যখন ডুবে যাচ্ছিল তখন আবার কম্পিউটার স্ক্রিনে লাল অক্ষরে আবার লেখা দেখলাম, “আপনাকে ছুড়ে ফেলা হল”। আমি বুঝতে পারলাম এটি একটি কম্পিউটার ভাইরাস। তার কিছুক্ষন পরেই আমি চেতনা হারাই। মনে হয় ঠিক তখনই আমার মৃত্যু ঘটেছিল।

এরপরের ঘটনা আমি জানতে পারি ওয়ার্ল্ড ডাটা নেটওয়ার্ক (এটি বিশ্বব্যাপী বার্তা সংস্থা, এখানে সব ধরনের তথ্য পাওয়া যায়) থেকে। সাতদিন পরে নিরাপত্তা কর্মীরা আমার লাশ উদ্ধার করেছিল। ততদিনে আমার সারা শরীরে পচন ধরেছে। কিন্তু সবচেয়ে আশ্চর্যের কথা হচ্ছে আমার মস্তিষ্কে তখনো পচন ধরেনি। তাই স্বাভাবিকভাবেই আমাকে খুব সহজে সনাক্ত করে নিরাপত্তা কর্মীরা।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আমার মৃত্যুতে দুই দিনের শোক দিবস পালন করার আহবান জানান। মন্ত্রিপরিষদের মিটিং এ সর্বসম্মতিক্রমে সবাই রাজি হোন যে আমার আবিষ্কারটি আমার উপরেই প্রয়োগ করা হবে। অর্থাৎ আমার মস্তিষ্ক সচল রাখা হবে। কারন তারা চিন্তা করলেন আমার মস্তিষ্ক দেশের অনেক সুফল বয়ে আনবে। এবং আমার সহকারীকে এর দায়িত্ব অর্পণ করলেন।

এক মাস পর…
ধীরে ধীরে আমি চোখ খুলে তাকালাম। একবার চোখ খুলেই আবার বন্ধ করে নিলাম। এত তীব্র আলো কেন? আবার আস্তে আস্তে আমার চোখজোড়া খুললাম। মাথার উপর সবুজ একটা বাতি জ্বলছে যার আলো ঠিক আমার কপালের মাঝ বরাবর পড়েছে (এটি জাইকা রশ্মি যার মাধ্যমে মানুষের মস্তিষ্ক থেকে কম্পিউটারে ডাটা ট্রান্সফার করা হয়)। আমি কোথায় আছি কিছুই বুঝতে পারি না। আমি বসে আছি না দাড়িয়ে আছি না শুয়ে আছি তাই বুঝতে পারলাম না। হঠাৎ আমার নাকে দুইটা নল আবিষ্কার করলাম। কিরকম লাল একটা তরল পদার্থ আমার নাকের মধ্যে ঢুকছে সেই নল দিয়ে (এই তরল পদার্থের নাম কলাক্সিক- মূলত এর তরলটার সাহায্যেই মানুষের মস্তিষ্ক সচল রাখা হয়)। ঠিক এ সময় ঘরের মধ্যে একটা উত্তেজনা দেখা দেয়। লোকটিকে খুব চেনা মনে হল কিন্তু এখন তাকে চিনতে পারলাম না। সে আরো তিনজন মানুষকে উত্তেজিতভাবে কিছু বলছে। তারপর সবাই মিলে কম্পিউটার স্ক্রিনের সামনে ঝুকে পড়তে দেখলাম। আমি প্রাণপণে নিজের স্মৃতি ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করতে লাগলাম। মানুষগুলোর একজনকে দেখলাম কার সাথে যোগাযোগ করে কথা বলছে। আমার ব্যাপারেই হয়ত, ভাবি আমি। ঠিক এসময় হঠাৎই আমার স্মৃতি ফিরে আসতে থাকে। এক্সিডেন্টের কথা মনে পড়ে যায়। আমি কি তাহলে বেঁচে আছি? নিশ্চয় বেঁচে আছি। পরক্ষণেই আমার ভুল ভাঙ্গে। আমার দেহ বলতে আর কিছু নেই। আমি অবাক হয়ে লক্ষ্য করি। তাহলে আমি কি মারা গিয়েছি? এরপর আমারই ফর্মুলাই আমার মস্তিষ্ক সচল করা হয়েছে? আমি আর কিছু ভাবতে পারি না। ঠিক এসময় আমার সহকারী নুরুল হুদা আমার দিকে এগিয়ে আসে।
-ওয়েলকাম ব্যাক স্যার। আপনার মস্তিষ্ক সচল করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে হচ্ছে। কেমন লাগছে স্যার?
নুরুল হুদার চেহারা দেখে হঠাৎই বলে ফেলি আমি
-আমার মৃত্যুর জন্যে তাহলে তুমিই দায়ী?
নুরুল হুদা অবাক হয়। কিন্তু সাথে সাথে সামলিয়ে নেয়। মুখে ক্রুর হাসি ফুটে উঠে।
-ঠিকই ধরেছেন স্যার। আমিই দায়ী। কি করব বলেন স্যার? আর কতদিন আপনার ছায়া হয়ে থাকব। আমারও তো নাম জশ খ্যাতি ইত্যাদি পেতে হবে। তাই না?
-তাই বলে আমাকে মেরে ফেললে? আমি তো তোমাকে সেরকম চোখে কখনো দেখতাম না। এমনকি নোবেল পুরুষ্কার নিতে গিয়েও তোমাকে সাথে নিয়ে গিয়েছি। আর তুমি কিনা…
-ফালতু কথা রাখেন স্যার। ওইসব লোক দেখানো কাজে আমার মনে ভরে না। লোকজন তো আপনার কথাই বলে। আমার কথা কি কেউ বলে? কেউ আমাকে চিনে? চিনে না।
-আমি তোমাকে ধরিয়ে দিব নুরুল হুদা।
নুরুল হুদা হা হা করে হেসে উঠে। বলে,
-পারবেন না স্যার। সে ক্ষমতা আপনার নেই স্যার। কারন কিছুক্ষন পর আপনার এই স্মৃতিটুকু ধ্বংস করা হবে।
আমার মন বিষাদে ছেয়ে যেতে থাকে।
-আমি তোমাকে অভিষাপ দেই নুরুল হুদা।
-হুমমম। আমিও আপনাকে কিছু অভিশাপ দিব স্যার। সরকার আপনার মস্তিষ্ক নিয়ে কাজ করতে চাই। তাদের ধারনা আপনি এখনো দেশের উপকার করতে পারবেন। কিন্তু আমি কি করে তা হতে দেই বলুন।
-কি করবে তুমি?
-কালা দবিরের কথা শুনেছেন স্যার? মানুষ খুন করা যার কাছে ছিল ডাল ভাত। প্রতিরক্ষা বাহিনীর কাছে কাল মারা গেছে বেচারা। ভাবছি তারই কিছু স্মৃতি আপনার মস্তিষ্ক দিয়ে দিব। কেউ বুঝতে পারবে না।
নুরুল হুদা হা হা করে হাসতে থাকে। আর আমি অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে রইলাম।

আবার যখন আমার জ্ঞান ফিরল তখন দেখলাম এক পরিচিত মুখ আমাকে ঘিরে আছে। একটু চেষ্টা করতেই বুঝতে পারলাম আমার স্ত্রী গ্লোরি।
-ভাল আছ গ্লোরি।
গ্লোরি কোন কথা বলল না। অশ্রু নয়নে তাকিয়ে রইল আমার দিকে। কিছুক্ষন পর ক্রন্দনরত কণ্ঠে বলল,
-যদি আমি তোমাকে যেতে না দিতাম…। সব আমার দোষ। আমার কপালে সুখ নেই।
আমি সান্তনা দিতে গিয়েও দিলাম না। বললাম,
-এখানে কিভাবে এলে?
-প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছিলাম। যদি তোমার জ্ঞান ফিরে তবে আমাকে একটি বারের জন্যে যেন দেখা করতে দেয়।
-ভাল করেছ। তোমার সাহায্যই আমার এখন দরকার। হার্মারকে এখানে আনতে হবে। তার আগে ওকে নতুনভাবে প্রোগ্রাম করতে হবে।
-কিভাবে?
এরপর আমি তাকে সবকিছু বুঝিয়ে দিলাম। গ্লোরি চুপচাপ শুনল। ওকে বলে দিতে হল না আমি কি করতে যাচ্ছি।
-কিন্তু হার্মারকে যদি না ঢুকতে দেয়?
-প্রোগ্রামটা ঠিক মত কর। তাহলেই সব হবে। এবার কথা না বাড়িয়ে প্রোগ্রামটি লিখে নাও।

এরপর গ্লোরি চলে গেল। কষ্টে আমার বুকটা ফেটে গেলেও স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করলাম। কিছুক্ষন পর নুরুল হুদা আসল।
-কি খবর স্যার? জীবনটা কেমন?
আমি কিছু বললাম না।
-আপনি মৃত হয়েও যে কষ্ট পাচ্ছেন, আমি জীবিত হয়েও সেই কষ্ট পেতাম স্যার। শুধু আপনার জন্যে আমার কোন পরিচিতি নেই।
-নুরুল হুদা তুমি আমাকে ভুল বুঝেছ।
নুরুল হুদা হেসে উঠে। বলে,
-চলুন স্যার। কালা দবিরের স্মৃতি আপনার মস্তিষ্কে পাঠিয়ে দেই। তারপর আপনার স্মৃতি চিরতরে বাতাসে উড়িয়ে দিব।
নুরুল হুদা হা হা করে হাসতে থাকে। তারপর কম্পিউটারের বোতামে হাত চালাতে থাকে। আমার মস্তিষ্কে তীব্র ব্যাথা হতে থাকে।ঠিক এসময় সিকিউরিটি ভাঙ্গার শব্দ শোনা যেতে থাকে। হার্মার যখন ঘরে ঢুকে নুরুল হুদা মনে হয় বুঝতে পারে আমি কি করতে যাচ্ছি। কিন্তু হার্মার তাকে করার কিছু সুযোগ না দিয়েই বাড়ি মারে তার মাথায়। অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে নুরুল হুদা। এরপর কলাক্সিক তরলের ট্যাংকসহ আমার মস্তিষ্ক নিয়ে দ্রুত সরে পড়ে ওখান থেকে এবং আমার গোপন ল্যাবটরিতে নিয়ে আসে। এরপর বাকি কাজটুকু করে আমার স্ত্রী গ্লোরি। হার্মারের কপোট্রনের জায়গায় আমার মস্তিষ্কটি জুড়ে দেয় সে। কলাক্সিকের জন্যে ছোট্ট একটা ট্যাংক বসায় হার্মারের বুকে। সফল অস্ত্রপাচার শেষে আমার যখন জ্ঞান ফিরল তখন আমার কোন বোধশক্তি নেই। কালা দবিরের স্মৃতি আমার মস্তিষ্কে দিতে গিয়ে কোন স্মৃতি আর অবিশিষ্ট ছিল না।

মানুষের শৈশব আর ফিরে আসে না। কিন্তু স্মৃতি হারিয়ে ফেলার কারনে আমি শিশুর জীবন ফিরে পেলাম। গ্লোরি আমাকে মায়ের মত একটু একটু বড় করতে থাকে। আমার মস্তিষ্ক হারিয়ে যাওয়ায় দেশে তোলপাড় শুরু হলেও কিছুদিন পর তা স্তিমিত হয়ে পড়ে। আস্তে আস্তে আমি আবার আগের মত হতে থাকি। আবিষ্কার করি আমি আর সব স্বাভাবিক মানুষের মত নই। গ্লোরির মুখে সব শুনে আমার বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়।
গ্লোরি আমাকে আমাদের বিয়ের ভিডিও দেখায়। আমি প্রাণপন আমার অতীত ফিরে পেতে চেষ্টা করতে থাকি। এক ভিডিওতে নুরুল হুদাকে দেখে আমি চিৎকার করে উঠি। আমার মস্তিষ্কে তীব্র ব্যাথা হতে থাকে। একসময় অজ্ঞান হয়ে পড়ি। যখন আমার জ্ঞান ফিরে তখন আমি আমার স্মৃতিশক্তি ফিরে পেয়েছি।
আমি গ্লোরিকে অপেক্ষা করতে বলে ল্যাবরেটরির উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। গিয়ে শুনলাম নুরুল হুদা এক্সিডেন্টে মারা গেছে। প্রতিশোধ নিতে না পারলেও আমি আমার আগের জীবন ফিরে পেলাম।

পরিশিষ্ট

হার্মার আশফাক আহমেদের ব্যক্তিগত ডায়েরি থেকে সবকিছু জানতে পারে। আশফাক আহমেদ তার স্ত্রীর ইন্তিকালের পর আর বেঁচে থাকার প্রয়োজন অনুভব করেননি। যাওয়ার আগে তিনি হার্মারকে পুরনো স্মৃতি দিয়ে বাঁচিয়ে দিয়ে যান।

এ এবং বি ক্যাটেগরির মানুষ(বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী-শেষ পর্ব)

1:17 pm in গল্প,কবিতা,উপন্যাস এবং ইতিহাস by electrowater

আজকে থার্টি ফার্স্ট নাইট। সেই প্রাচীন যুগ থেকে রীতি চলে আসছে নতুন বছরকে আনন্দের সাথে বরণ করে নেয়ার। রাত বারটা বাজার সাথে সাথে একে অপরকে চিৎকার করে বলে, “হ্যাপি নিউ ইয়ার”, “হ্যাপি নিউ ইয়ার”। রূপকের এসব রীতিতে একটুও আগ্রহ নেই। শুধু শুধু সময় নষ্ট করতে সে একদম পছন্দ করে না। সেই ছোটবেলা থেকেই একনাগাড়ে কাজ করে এসেছে সে। এটি তার দোষ না গুণ তা নিরূপন করা একটু কঠিন বৈকি।

রূপকের আস্তানার কাছেই একটা বিল্ডিং তৈরি হচ্ছে। এটা নাকি কয়েক মিলিয়ন তলার বিল্ডিং হবে। সে ওখানেই শ্রমিকের কাজ করে। তার কাজ খুব সাধারন হলেও বেশ শ্রম দিতে হয় তাকে।মাঝে মাঝে ক্লান্ত হয়ে পড়ে সে। একবার মারাত্তক আহতও হয়েছিল সে। টিবিসি-৩৪২ যে কিনা তার যাবতীয় ঘরের কাজ করে দেয়া রোবট, সে না থাকলে হয়ত রূপক সেবার বাঁচত না। টিবিসি-৩৪২ খুব নিম্নমানের রোবট। আজকাল আর কেউ তেমন এ ধরনের রোবট ইউজ করে না। রূপকের দামী রোবট কেনার সামর্থ নেই বলে ও বাজার থেকে টিবিসি-৩৪২ কেই কিনে এনেছে। ওর এতে বেশ কাজ চলে যায়।

পৃথিবীর এই অংশে আসতে পারবে রূপক সেটা কখনো কল্পনায় করেনি। পৃথিবী মানুষ আজ নিজেদেরকে দুই ক্যাটেগরিতে ভাগ করে ফেলেছে। এ এবং বি। এ গ্রুপের মানুষেরা বুদ্ধিবান। তারাই বিশ্বকে চালায়। থাকে উন্নত জায়গায়। আর বি গ্রুপের মানুষদের ধরা হয় জড়বস্তুর মত। বি ক্যাটেগরির মানুষেরা সবাই শ্রমজীবী। এর চেয়ে বড় কাজ তারা করতে পারে না। রূপক বি ক্যাটেগরির মানুষ। সে ছোট থেকে যখন বড় হয়েছে তখন সে শুনেছে সে অথর্ব, কিছু করতে পারে না। যে পিতা মাতার কাছে রূপক পালিত হয়েছে তারাও বি ক্যাটেগরির মানুষ।এগুলো ভাবতে ভাবতে রূপক একসময় ঘুমিয়ে পড়ে।

পরের দিন সকালে উঠে রূপক কাজে যাওয়ার জন্যে রেডি হতে থাকে। যখন সে বেরুবে ঠিক তখন দরজার কাছে একটি লাল সবুজ খাম আবিষ্কার করে। খামের উপর আর. ডব্লুউ. এর সীল মারা রয়েছে। রূপক বাস্তবিকই খুব অবাক হয়। সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে এ যুগে কেউ কাউকে চিঠি পাঠায় না। আর তাছাড়া আর. ডব্লুউ. হচ্ছে রিপাবলিক অব ওয়ার্ল্ড। সেখান থেকে রুপকের কাছে চিঠি আসার কথা না। নিশ্চয় কোন ভুল হয়েছে। সে খামটা নিয়ে কিছুক্ষন নেড়ে চেড়ে রেখে দেয়। অবশ্যই এটা অন্য কাউকে দেওয়ার কথা ছিল। ভুল করে তার কাছে চলে এসেছে। নিশ্চয় পরে কেউ এটা চাইতে আসতে পারে। রূপক সযত্নে খামটি ঘরে রেখে কাজের জন্যে বেড়িয়ে যায়।
রূপক তার কাজ করার জায়গায় এসে জানতে পারে তাকে তার কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এর মানে তাকে এ জায়গা ছেড়ে শীঘ্রই চলে যেতে হবে। রূপকের মনটা খারাপ হয়। সে সাধারন শ্রমিক হলেও তার ইচ্ছে জীবনটা এ এলাকায় কাটিয়ে দেওয়ার। কিন্তু তা আর সম্ভব নই। তাকে ফিরে যেতে হবে সেই নোংরা, ঘিঞ্জি এলাকায়। রূপকের সহকর্মীরা তাকে সহমর্মিতা দেখায়। রূপক তার আস্তানায় ফিরে আসে। সবকিছু গুছিয়ে রাখা দরকার কিন্তু তার ইচ্ছে করে না। টিবিসি-৩৪২ এর সাথে কথা বলে কিছুক্ষন সময় কাটায় সে। হঠাৎ তার চিঠিটার কথা মনে পড়ে। কেউ চাইতে এল না যখন তখন খুলে দেখা যাক, ভাবে রূপক। চিঠিটা হাতে নিয়ে এবার তার হাত কাঁপতে থাকে। খামের উপর যে তারই নাম লেখা। সকালে সে লক্ষ্য করে নাই। এবার সে বুঝতে পারে যে কেন চিঠি পাঠানো হয়েছে তাকে। তার ডাটা মডিউল (যার মাধ্যমে হলোগ্রাফিক স্ক্রীনে তথ্য আদান প্রদান করা হয়) নাই। তাই তাকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কি আছে এই চিঠিতে?
রূপক কাঁপা কাঁপা হাতে চিঠিটা খুলে। উত্তেজনায় তার মন ছটফট করে উঠে। কোন দুঃসংবাদ নয় তো। রূপক চিঠি পড়তে শুরু করে।

রূপক,
তুমি জান যে, তুমি একজন বি ক্যাটেগরির মানুষ। স্বাভাবিক জীবন যাপন করার ক্ষমতা তোমার নেই। তবু আমরা ঠিক করেছি তোমাকে এ ক্যাটেগরি মানুষের অঞ্চলে স্থায়ীভাবে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। এবং সেটা বাস্তবায়নের জন্যেই এই চিঠি। চিঠির সাথেই একটি সবুজ কার্ড পাবে। এই কার্ড দিয়ে যে কোন জায়গায় যাওয়া যাবে এবং সবধরনের সুযোগ-সু্বিধা পাবে। ঠিক এক মাস পর আর. ডব্লুউ. বিল্ডিংয়ের এক হাজার নয় তলায় যোগাযোগ করবে। তোমাকে একটা মহাকাশযানের ক্যাপ্টেন করে মহাকাশে প্রেরণ করা হবে। আশা করি তোমার ভবিষ্যত জীবন সুন্দর হবে।

মহাপরিচালক
গ্রাইটন হাসান
আর. ডব্লুউ.

রূপক নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারে না। এও সম্ভব। বি ক্যাটেগরির মানুষ হয়েও তাকে এ ক্যাটেগরি মানুষদের সাথে থাকতে দেওয়া হবে। তারপরও কেমন যেন সন্দেহ লাগে তার। তার মনে হয় কোথাও যেন গন্ডগোল আছে। তাছাড়া মহাকাশযানের ক্যাপ্টেন সে কিভাবে হবে? সে তো এ সম্পর্কে কিছুই জানে না। তবু পাত্তা দেয় না ব্যাপারটা। আর. ডব্লুউ. যখন তাকেই সিলেক্ট করেছে তখন অবশ্যই তার প্রতিভা আছে। ভিতরে ভিতরে সে গর্ববোধ করে।

বাইরে রাস্তায় নেমে একটা উড়ন্ত জাহাজকে থামিয়ে ফেলে রূপক। এক জায়গায় লেখা “দয়া করে আপনার কার্ডটি প্রবেশ করান”। রূপক সেখানে সবুজ কার্ডটি প্রবেশ করিয়ে দেয়। সাথে সাথে দরজা খুলে যায়। দায়িত্বপ্রাপ্ত রোবটটি যান্ত্রিক গলায় বলে উঠে,
-কোথায় যাবেন স্যার।
রূপক কি উত্তর দিবে বুঝতে পারে না। আধ সেকেন্ড পর বলে,
-আমাকে এই এলাকাটা ঘুরিয়ে দেখাতে পারবে?
-জ্বি স্যার পারব। কিন্তু কেন এলাকাটি ঘুরতে চাচ্ছেন বুঝতে পারছি না স্যার।
রূপক হঠাৎই রেগে যায়। এটি তার চরিত্রে কখনোই ছিল না। হয়ত তার বর্তমান অবস্থাই এর জন্যে দায়ী।
-সেটা তোমাকে জানানোর প্রয়োজনবোধ করছি না। তোমাকে যা বলা হচ্ছে তার উত্তর দাও।
-জ্বি আচ্ছা স্যার। আমি দুঃখিত স্যার।
-সম্পূর্ণ ঘুরতে মোট কত সময় লাগবে?
-স্যার দুই ঘন্টা একচল্লিশ মিনিট তেত্রিশ সেকেন্ড।
-এত কম সময়?
রূপক বাস্তবিকই অবাক হয়।
-জ্বি স্যার। এটি দ্রুতগামী উড়ন্ত জাহাজ।
রূপক আর কথা না বাড়িয়ে সিট গ্রহণ করে।সাথে সাথে দরজা বন্ধ হয়ে যায়। উড়ন্ত জাহাজটি চোখের নিমিষে রূপককে উড়িয়ে নিয়ে যায়।

একমাস পর……

আর. ডব্লিউ. এর মহাপরিচালক গ্রাইটন হাসান নিজে দাঁড়িয়ে সব কাজ সম্পন্ন করালেন। প্রথমে রূপককে হীমশীতল কফিনে ঢুকানো, তারপর তাকে অজ্ঞান করা। মহাকাশযানে অটোচালক সেট করা এবং সেটাকে সফলভাবে যাত্রার উদ্দেশ্যে পাঠানো।

পরিশিষ্ট

প্রাচীন যুগে মানুষেরা নিজেদেরকে ধনী, গরিব নামে দুই শ্রেণীতে বিভক্ত করেছিল। আর বর্তমান কালে তারা নিজেদের ভাগ করেছে এ এবং বি ক্যাটেগরি রূপে। সময় পাল্টালেও শোষন জিনিসটা আজও সভ্যতা থেকে উঠে যায়নি। রূপককে বলা হয়েছিল তাকে মহাকাশযানের ক্যাপ্টেন করে পাঠানো হবে। কিন্তু আসলে তাকে হিমায়িত কফিনে করে উপহার পাঠানো হয়েছে হাস্কাদের (মহাজাগতিক প্রাণী) কাছে। আর. ডব্লুউ. এর আশা ছিল এর বিনিময়ে তারাও হয়ত কোন উপহার পাবে হাস্কাদের কাছ থেকে। কিন্তু তাদের সে আশা পূরণ হয়নি। পৃথিবীতে এসব তথ্য গোপন রাখা হয়। ফলে পৃথিবীতে আরেকবার প্রমাণিত হয় যে, বি ক্যাটেগরির মানুষ কোন কাজ করতে সক্ষম নয়।

জিনিয়া (বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী)

1:16 pm in গল্প,কবিতা,উপন্যাস এবং ইতিহাস by electrowater

পূর্বকথা

ত্রিশ শতাব্দীর দিকে পৃথিবীর অবস্থা খারাপ হতে থাকে।পৃথিবীর বায়ুমন্ডল এতটাই দূষিত হয়ে পড়েছিল যে দিন দিন মানুষের বাসের অযোগ্য হতে থাকে পৃথিবী। সে সময়ে মানুষ ধারনা করেছিল মানুষ হয়ত মঙ্গল গ্রহতে বসতি স্থাপন করতে যাচ্ছে। কিন্তু তা আদৌ সম্ভব হয়নি।ঠিক এ সময়েই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারটা করে বসেন জীববিজ্ঞানী রোলেক্স রাইটন।তিনি প্রমাণ করেন যে মানুষের ফুসফুসে একটি অপারেশন করলেই মানুষের নিঃশ্বাস জাতীয় জটিলতা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। এমনকি যে স্থানে অক্সিজেন নেই সেখানেও মানুষ বেঁচে থাকতে পারবে। মানুষেরা যেন হাফ ছেড়ে বাঁচল। তারপর সৌরজগতের বিভিন্ন গ্রহে মানুষ ছড়িয়ে পড়ে এবং তার কিছুদিন পরে বিচিত্র কোন এক কারনে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে পড়ে।

৪০০৯ সাল

ক্যাপ্টেন কিরানা লুক চিন্তিত মুখে স্ক্রিনের সামনের দিকে তাকিয়ে আছেন। উনার অনুভূতি সবসময়ই প্রবল। তার মনে হচ্ছে কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। তিনি আঁচ করতে পারছেন। ঘুম থেকে উঠেই তিনি স্পেসশীপের সবকিছু পরীক্ষা করলেন। কিন্তু কোথাও কোন গন্ডগোল পেলেন না। তিনি যখন উদ্দিগ্ন হয়ে বসে আছেন তখনই কিছু ছোট শিশু সেখানে ঢুকে পড়ে। হৈ হল্লা করে বেড়াতে থাকে চারদিকে যদিও তাদের এখানে আসার কথা না। ক্যাপ্টেন কিরানা লুক বিরক্ত হলেও কিছু বলেন না। ভাবেন আজ পৃথিবী ধ্বংস না হলে এই শিশুগুলো সবুজ মাঠে খেলা করত।এই স্পেসশীপে কম করে হলেও আড়াইশ পরিবার আছে। তাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
কিছুক্ষন পর শিশুগুলোর মা এসে উপস্থিত হয় সেখানে।
-আমি অত্যন্ত দুঃখিত ক্যাপ্টেন। ভুল করে বাচ্চারা এখানে চলে এসেছে। ক্ষমা করবেন।
-হুম। ওদের জন্ম কি আপনি দিয়েছেন?
মহিলা অবাক হয়।
-না জনাব। ওরা ল্যাবটরিতে তৈরি। আপনি হয়ত জানেন না যে আইন করে মায়ের পেটে সন্তান জন্ম দেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
দীর্ঘশ্বাস ছাড়েন ক্যাপ্টেন কিরানা লুক। বলেন,
-আমি জানি। আমি নিজেই তো ভোট দিয়েছিলাম ব্যাপারটায়।
-হুম।অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
শিশুগুলোকে নিয়ে মহিলাটি চলে যায়। গন্তব্য স্থানে যেতে অনেক দেরি তাই ক্যাপ্টেন লুকও নিজের কক্ষে ফিরে যান। আরেকবার ঘুমের ব্যবস্থা করতে থাকেন।
ক্যাপ্টেন লুক ঘুমাবার ঠিক আধ ঘন্টা পর জোরে জোরে সাইরেন বাজতে থাকে এবং কিছুক্ষন পর জুরিপান গ্রহে স্পেসশীপটি বিধ্বস্ত হয়। আড়াইশ পরিবারের সবাই মারা পড়ে এই দূর্ঘটনায়। বিস্ময়করভাবে বেঁচে যায় শুধু বাচ্চাগুলো।

বর্তমান (আরো একশ শতাব্দী পর)

জুরিপান গ্রহে এরকম ঘটনা আগে ঘটে নাই।একটা স্পেসশিপ কিছুক্ষন আগে এখানে বিধ্বস্ত হয়েছে।কিছু বিচিত্র প্রানী ছিল ঐ স্পেসশিপে। পাঁচ থেকে ছয় ফুট লম্বা হবে। তারা আবার দুই ধরনের আছে। একধরনের চুল লম্বা, আরেকধরনের চুল ছোট।তাদের শারীরিক গঠনও ভিন্ন। জুরিপান গ্রহের বিজ্ঞান আকাদেমীর মহাপরিচালক ইউকানো নিরিদা ব্যাপারটি খুব গুরুত্বের সাথে নিলেন।সাধারন জিনিয়ারা যেন জায়গাটির ধারে কাছে না আসতে পারে তার ব্যবস্থা করলেন।

ইউকানো নিরিদা তার অফিসের জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছেন। কি সুন্দর গোলাপী সূর্য উঠেছে। এরকম একটা দিনে কাজ করতে তার মন চাই না। তবু করতে হয়। তার অনেক দায়িত্ব। এই গ্রহের সবকিছু তার কথাতেই চলে। তবে আজ উনি খুব চিন্তিত। স্পেসশিপে আসা প্রাণীগুলো সত্যি তাকে অবাক করেছে। অনেকটা জিনিয়াদের মত হলেও যেন জিনিয়া নয়। তিনি ঘড়ির দিকে তাকান। সন্ধ্যা ছয়টা বেজে পঞ্চান্ন। সাতটায় মিটিং ডেকেছেন তিনি। আর দাঁড়িয়ে না থেকে হল ঘরের দিকে রওনা হলেন।

ইউকানো নিরিদা হলঘরে ঢুকতেই সব গুঞ্জন থেমে যায়। গমগমে কণ্ঠে তিনি কথা বলতে শুরু করেন।
-আপনারা নিশ্চয় অবগত আছেন যে কেন আজ আপনাদের এখানে ডেকেছি।
তিনি সবার দিকে তাকালেন। সবাই হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ল। তখন তিনি আবার বলতে শুরু করলেন।
-আমাদের বিজ্ঞান আজ অনেকদূর এগিয়ে গেছে। এইজন্যে আমি আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ। গতবছর বিজ্ঞানী দিয়ানো নিপিনা আমাদের গ্রহের বাইরে প্রাণীদের কথা নিশ্চিত করেছিলেন। কিন্তু তখনও আমরা জানতাম না যে সে প্রানীগুলো কিরকম। আজ সে সুযোগ এসেছে। আমি মনে করি আমরা জিনিয়া হিসেবে তাদের চেয়ে উত্তম। আমরা চাইনা তাদের কোন ক্ষতি হোক। আপাতত তারা আমাদের কাছে বন্দি রয়েছে কারন আমরা তাদের সম্পর্কে তেমন কিছুই জানি না। তাই আমি সবাইকে বলব তাদের যেন কোন ক্ষতি না হয়। তাদের ক্ষতি না করে আমাদের জানতে হবে তাদের পরিচয়, কোথা থেকে এসেছে।

বিজ্ঞানী সিসিলা জিমানি টেবিলে চাপড় মেরে হেসে উঠলেন।
-চমৎকার। অতি হাস্যকর কথা বললেন মহামান্য নিরিদা। আমি না হেসে পারলাম না।
উপবিষ্ট অন্যান্য বিজ্ঞানীরা অবাক হলেন না। বিজ্ঞানী সিসিলা জিমানি এরকমই।কাউকে সম্মান করে কথা বলেন না। কিন্তু তিনি অনেক প্রতিভার অধিকারী বলে আজও কেউ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেনি। হয়ত সেটা সবার কথা চিন্তা করেই।

বিজ্ঞানী ইউকানো নিরিদা তেমন কোন প্রতিক্রিয়া দেখালেন না। শুধু বললেন,
-কেন এ কথা বলছেন মহামান্য জিমানি।
-আপনি বলছেন যে তাদের কোন ক্ষতি না করে…কিভাবে? আমার তো মনে হয় সেই প্রাণীগুলোকে ল্যাবটরিতে এনে কেটেকুটে দেখা উচিত। তাহলেই আমরা সবকিছু জানতে পারব।
ইউকানো নিরিদা মর্মাহত হোন। বললেন,
-আমি আপনার সাথে একমত নয় মহামান্য জিমানি। তাছাড়া প্রাণীগুলোকে আমার হিংস্র মনে হয়নি।
-আপনার মনে হওয়া না হওয়ায় কিছু যায় আসে না।
-কি বলতে চান?
-আপনি হচ্ছেন একটা মহামূর্খ। আর আপনার আশে পাশে যারা আছে তারাও মূর্খ।
ইউকানো নিরিদা চূড়ান্ত পরিমানে রেগে গেলেন।
-আপনাকে এখনি বিজ্ঞান পরিষদ থেকে সারাজীবনের জন্যে বহিষ্কার করা হল।
-আমি আপনার বিজ্ঞান পরিষদের নিকুচি করি।
বিজ্ঞানী সিসালি জিমানি বের হয়ে যান হল রুম থেকে। তার পেছন পেছন আরো সাত আটজন বিজ্ঞানী হল রুম থেকে বের হয়ে যায়।

পরিশিষ্ট

৪০০৯ সালে যে স্পেসশীপটি জুরিপান গ্রহে বিধ্বস্ত হয় সেই স্পেসশীপে বেঁচে যাওয়া বাচ্চাগুলোর বংশধর হচ্ছে আজকের জিনিয়া। রোলেক্স রাইটনের আবিষ্কার অনুযায়ী ঐ বাচ্চাগুলোর ফুসফুসেও অপারেশন করা হয়েছিল। কিন্তু জুরিপান গ্রহে ছিল কক্সনাইড যা কিনা বিষাক্ত গ্যাস। ফলে তাদের নানা রকম বিকৃতি দেখা দেয়। শরীরের রং হয়ে যায় লাল, রক্তের রং হয় গাঢ় বাদামী। জিনিয়ারা দুই থেকে তিন ফুটের বেশি লম্বা হয় না।
তারও একশ শতাব্দী বসত দূর্ভাগ্যবশত আবার একটি মানুষের স্পেসশিপ বিধ্বস্ত হয় জুরিপান গ্রহে। মানুষগুলোকে বাঁচা না বাঁচানোর পক্ষে বিপক্ষে দুই গ্রুপ গড়ে উঠে জিনিয়াদের মধ্যে। এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয় জুরিপান গ্রহে। বিজ্ঞানী ইউকানো নিরিদার কল্যাণে মানুষগুলো মুক্তি পায় এবং পালাতে সমর্থ হয়।

জন্মকথা (বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী)

1:15 pm in গল্প,কবিতা,উপন্যাস এবং ইতিহাস by electrowater

বাইরে কি বৃষ্টি হচ্ছে?
এই মধ্যরাতে এক পশলা বৃষ্টি হলে মন্দ হয় না। ভাবে লিয়ান। অনেক্ষন ধরেই সিডি প্লেয়ারে গান শুনছে সে। ঘরে টেবিল ল্যাম্প জ্বলছে ঠিক তার বিছানার কাছে। এই আলোতে বিছানায় শুয়ে থাকতে বেশ মজা লাগে লিয়ানের। আলো আঁধারিতে মন কেমন যেন খেলা খেলে যায়। কিছু না ভেবেই অনেকক্ষন কাটিয়ে দেওয়া যায়।
মোবাইল বাজছে কি? লিয়ান সিডি প্লেয়ারটা বন্ধ করে মোবাইল হাতে নেয়। কে কল করেছে না দেখেই মোবাইলটা সুইচ অফ করে দেয়। তারপর আবার সিডি প্লেয়ারটা ছেড়ে দেয়। যেন পুরো পৃথিবীর উপরই তার অনেক অভিমান।
জানালার পাশে এসে দাড়ায় সে। সারি সারি ছয়তলা, দশতলা বিল্ডিং। চারিদিকে কৃত্রিম আলোর ছড়াছড়ি। শহরের এ দিকটা অনেক পরিষ্কার পরিছন্ন। লিয়ান জানালার পাশ থেকে সরে আসে। সিডি প্লেয়ারটা বন্ধ করে টেবিল ল্যাম্পটা বন্ধ করে দেয়। তারপর নরম বিছানায় এলিয়ে দেয় নিজেকে।
ফজরের দিকে ঘুম ভেঙ্গে যায় লিয়ানের। তীব্র ব্যাথায় কাতরাতে থাকে সে। ডাইনিং টেবিলের দিকে ছুটে যেতে চাইল সে। কিন্তু কোথায় রুমের দরজা। কিছুতেই সে দরজা খুজে পাচ্ছে না। চারিদিকে দেয়াল। তার মনে হচ্ছে ঘরের ভিতর অসংখ্য ঝিঁ ঝিঁ পোকা ডাকছে একসাথে। পাগলের মত চারিদিকে হাতরাতে থাকে সে। ভয়ে চিৎকার করে কাঁদতে থাকে। জ্ঞান হারাবার আগে তার মুখ দিয়ে মা শব্দটি ছাড়া অন্যকিছু শোনা যাচ্ছিল না।
লিয়ানের যখন জ্ঞান ফিরে তখন সে দেখতে পায় চারিদিকে শুধু সাদার ছড়াছড়ি। এটা কোন জায়গা? সে কি মরে গেছে?
হঠাৎ মাথায় কার কোমল স্পর্শ পায় সে। কোমল স্পর্শদানকারিনীর দিকে তাকায় সে। চিনতে পারে মাকে। স্মিত হাসি দেয় লিয়ান। বুঝতে পারে সে হাসপাতালে। গতরাতের কথা মনে পড়ে।
-এখন কেমন লাগছে বাবা? জিজ্ঞেস করেন লিয়ানের মা।
-ভাল। অস্ফুট স্বরে উত্তর দেয় লিয়ান। কিছুক্ষন চুপ করে থাকে তারপর মাকে জিজ্ঞেস করে বসে,
-মা, আমি কি আর বাঁচব না?
লিয়ানের মা দিশেহারা বোধ করেন। তবু মুখে হাসি ফুটিয়ে বলেন,
-ধুর পাগল। তুই মরতে যাবি কোন দুঃখে? তোর কি মরার বয়স হয়েছে? পাগল ছেলে।
লিয়ান মার মুখের দিকে তাকায়। কিছু বলে না। তারপর জিজ্ঞেস করে,
-আম্মু আব্বু কোথায়?
-আছে। ডাক্তারদের সাথে কথা বলছে।
-আম্মু তোমাদের বিয়ের গল্পটা আবার শুনাবে?
লিয়ানের মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে হেসে উঠেন লিয়ানের মা।
-এক গল্প কতবার শুনবি?
-বলই না। বিশেষ করে ওই জায়গাটা যখন তুমি আব্বুর হাত ধরে বাসা থেকে বের হয়ে যাচ্ছিলে।
-কেন ওই জায়গাটা কেন?
-আমার হেভি মজা লাগে। কেমন জানি সিনেমা সিনেমা ভাব আছে।
-ওরে দুষ্টরে।
এই সময় লিয়ানের বাবা এসে ভিতরে ঢুকেন। মুখটা কালো। মুখ দেখেই লিয়ানের মা অনুমান করতে পারেন ডাক্তাররা কি বলেছেন।লিয়ানের মা লিয়ানকে শক্ত করে ধরে রাখেন।
লিয়ানের লাস্ট স্টেজে ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়েছিল। ঠিক পাঁচদিন পরে তার মৃত্যু হয়।

আজ রেজাল্ট বের হয়েছে। দুরু দুরু বুকে রেজাল্ট আনতে যাচ্ছে আনহা। রেজাল্ট যা ভেবেছিল তাই হয়েছে। লিস্টে তার নাম নেই। প্রফেসর স্টাইন তাকে পাশ করাননি। সে প্রফসরের কাছে ছুটে যায়। ওকে দেখেই প্রফেসর স্টাইন বলে উঠল,
-আনহা তোমাকে আগেই বলেছিলাম, ১০২৫ নম্বর কোর্সটা তুমি নিও না।
-কিন্তু প্রফেসর?
-কিন্তু কি? তুমি যেসব প্রাণি তৈ্রি করেছিলে তা আমার কাছে বুদ্ধিমান মনে হয়নি। আর শারিরীকভাবে খুবই দূর্বল।
-কিন্তু বুদ্ধিমান প্রাণি তো শারিরীকভাবে বিচার করা হয় না। তাছাড়া তারা অনেক উন্নতি সাধন করেছিল এবং তা সম্পূর্ণ নিজেদের দক্ষতায়।
-না তা হয় না। বুদ্ধিমান প্রাণিগুলোর এত সহজে মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না।
-কিন্তু অন্যদের চেয়ে আমার প্রাণিগুলো মধ্যে কিছু ব্যতিক্রম ছিল। ওদের মধ্যে প্রেম, ভালবাসা, সুখ-দুঃখ ছিল।
-অপ্রয়োজনীয় বিষয়।
-কিন্তু?
-এখনো সময় আছে, কোর্সটা পাল্টিয়ে ফেল।
-না।

আর কোন কথা না বলে আনহা বের হয়ে আসে প্রফেসরের রুম থেকে।

এরপর আনহাকে কেউ প্রকাশ্যে দেখেনি। তবে সে বড় একটা ল্যাবরেটরি তৈরি করে যেখানে সে তার তৈ্রি প্রাণিগুলো ছেড়ে দেয়। বিস্ময়করভাবে প্রাণিগুলো এখনো বেচে আছে। কিছু তরুন বিজ্ঞানী তা আবিষ্কার করে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আনহাকে অবশেষে স্বীকৃ্তি দেওয়া হয়। এবং ‘আনহা ডে’ নামে একটা দিন ঘোষনা করে।

মিল্কিওয়েতে এলিয়েন গ্রহ

12:55 pm in গল্প,কবিতা,উপন্যাস এবং ইতিহাস by electrowater

সম্প্রতি জার্মানির জ্যোর্তিবিদরা জানিয়েছেন, মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে তারা এলিয়েন একটি গ্রহের খোঁজ পেয়েছেন যেটি মৃত একটি নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। এই গ্রহটির অবস্থান মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে হলেও এর সৃষ্টি এই গ্যালাক্সির বাইরে অন্য কোথাও।

গবেষকদের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, এলিয়েন গ্রহটি দেখতে বৃহস্পতি গ্রহের মতোই। এটি একসময় বামন গ্যালাক্সির সোলার সিস্টেমের অংশ ছিলো যা অনেকটাই মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির মতোই ছিলো।

গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়েছে সায়েন্স সাময়িকীতে।

গবেষকরা জানিয়েছেন, এলিয়েন এই গ্রহটির নাম এইচআইপি ১৩০৪৪। এই গ্রহটি এখন তার জীবনের শেষ ধাপ অতিক্রম করছে। গ্রহটির অবস্থান পৃথিবী থেকে ২ হাজার আলোকবর্ষ দূরে।

চিলিতে অবস্থিত টেলিস্কোপের সাহায্যে এই গ্রহটির অবস্থান বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন গবেষকরা।

গবেষকরা জানিয়েছেন, এই গ্রহটির বিশেষত্ব হলো, আমাদের সৌরমণ্ডলের বাইরের অনেকগুলো এক্সোপ্লানেটের মধ্যে একটি নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘোরে। আর এই নক্ষত্র ‘হেলমি স্ট্রিম’ নামের আলাদা একটি বামন গ্যালাক্সির অংশ। ছয় থেকে নয় বিলিয়ন বছর আগে এই বামন গ্যালাক্সিটি মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির অংশ হয়ে গেছে।

নতুন গ্রহটির সর্বনিম্ন ভর বৃহস্পতির চেয়ে ১.২৫ গুন বেশি এবং এটি ১৬.২ দিনে নিজ কক্ষপথে আবর্তন করে।